সংবাদ

পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রান্ড কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

আল্লাহর রাসূলের সুমহান আদর্শে আদর্শিত হওয়াই ঈদে মীলাদুন্নবীর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় -হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী

বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ হযরত মুহাম্মদ মোস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাাম এর আগমনবার্ষিকী পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পতাকাবাহী সংগঠন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের দেশব্যপী কর্মসুচির অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল কাউন্সিলের উদ্যোগে লন্ডনের স্থানীয় একটি কনফারেন্স হলে গত ১৮ নভেম্বর রবিবার আয়োজন করেছে এক গ্রান্ড কনফারেন্সের।

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের প্রেসিডেন্ট আল্লামা হাফিজ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ গ্রান্ড কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদউদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ‘র প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ছাহেবাজাদায়ে ফুলতলী, শায়খুল হাদীস আল্লামা হবিবুর রহমান, ইসলামিক ফোরাম কানাডার প্রেসিডেন্ট শায়েখ ফায়সাল হামিদ আবদুর রাজ্জাক, ইয়েমেনের দারুল মোস্তাফা থেকে শায়েখ হাসান শায়ার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা) এর জীবনী আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো তাঁর ‘খুলুকে আজীম’ তথা সুমহান আদর্শে আদর্শিত হওয়া। এই খুলুকে আজীম আমাদেরকে শিক্ষা দেয় সেই দূরে ফেলে আসা প্রাণপ্রিয় জন্মভুমির বিপন্ন মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, নির্যাতিত-মজলুম মানুষদের খিদমতে নিয়োজিত হওয়া।

তিনি বলেন, রাহমাতুল লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ (সা) এসেছিলেন মানবজাতিকে দাসত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত করার জন্য। নির্যাতিত-নিপীড়িত দাস-দাসীদের সাহায্যে তিনি এগিয়ে এসেছিলেন। ক্ষমা প্রদর্শনের অপূর্ব নজীর তিনি রেখে গেছেন। তাঁর সেই মহান আদর্শে আমাদেরকে আদর্শিত হতে হবে। আলেম-উলামার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর প্রতি আক্বীদা-বিনষ্টকারী বই-পুস্তকের আজ অভাব নেই। সেগুলো থেকে আমাদেরকে সতর্ক থেকে সহীহ আকীদাভিত্তিক নির্ভরযোগ্য কিতাব অধ্যয়নে আমাদেরকে মনোনিবেশ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মজলুম-নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সান্নিধ্যে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার বিভিন্ন সময় হয়েছে। এই নির্যাতিত মানুষগুলো যখন ভারাক্রান্ত হৃদয়ে অশ্রুভেজা সালাত ও সালাম পাঠ করে তখন মনে হয় নীড় হারা পাখীগুলো ছুটছে পাক মদীনার পানে। তাদের সালাত ও সালাম কক্সবাজারে আটকে পড়ে না; পথ-প্রান্তর, মরু-গিরী পার হয়ে সেই সালাত ও সালাম গিয়ে পৌঁছে সোনার মদীনায়। আমাদেরকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে আমাদের সালাত ও সালাম সঙ্গে সঙ্গে হুযুরে পাক (সা.) এর দরবারে গিয়ে পৌঁছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, রাসূলে পাক (সা.) হলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর নসবকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পুত-পবিত্র রেখেছেন। তাঁর খান্দান, তাঁর আলোচনা এবং তাঁর মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। তিনি বলেন, ইয়াযিদ এবং হোসাইনী দ্বন্ধ ইসলামের প্রথমকাল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত বাকী রয়ে গেছে। ইয়াজীদপন্থীরা আল্লাহর রাসূলের মর্যাদা, আহলে বাইতের সম্মান ও মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করতে চায়। আল্লাহর রাসূলের মীলাদের মাহফিলে তাদের কষ্ট হয়। অপরদিকে আমরা হোসাইনী মুসলমান হতে চাই। হাশরের ময়দানে আল্লাহর রাসূলের আদরের নাতি এবং আহলে বাইতের সাথে আমরা পূনরুত্থিত হতে চাই, তাই আমরা রাসূলে পাক (সা.) এর মর্যাদা ও সম্মান আলোচনায় ঈদে মীলাদুন্নবী মাহফিলের আয়োজন করে থাকি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ইসলামিক স্কলার, ইসলামিক ফোরাম কানাডার প্রেসিডেন্ট এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত কানাডার নেতৃস্থানীয় বুযুর্গ শায়েখ ফায়সাল হামীদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, আল্লাহ পাক আমাদেরকে তাঁর নৈকট্য হাসিলের জন্য উসীলা অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের জন্য সর্বোত্তম উসীলা হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। সুতরাং আল্লাহর রাসূলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। আর আল্লাহর রাসূলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম হচ্ছে তাঁকে ভালবাসা, তাঁর আলোচনা করা, তাঁর প্রতি দুরুদ শরীফ পড়া। তিনি বলেন, দুরুদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে দুনিয়ার জীবনে, কবরের জীবনে এবং হাশরের ময়দানে আমরা আল্লাহর রাসূলের নৈকট্য হাসিল করতে সক্ষম হব।

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ চৌধুরী ও সাইদ আহমদ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে ঈদে মীলাদুন্নবীর তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা পেশ করেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রিকলেন জামে মসজিদের খতীব হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম, লাতিফিয়া উলামা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মাওলানা শিহাব উদ্দিন, লাতিফিয়া ক্বারী সোসাইটি ইউকের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতী আশরাফুর রহমান, মুসলিম হ্যান্ডস বাংলাদেশেরে কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং স্কুল অব এক্সেলেন্স সিলেটের প্রিন্সিপাল মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী, দারুল হাদীস লাতিফিয়া নর্থওয়েস্টের প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী, বৃটিশ মুসলিম স্কুল বার্মিংহাম এর প্রিন্সিপাল মাওলানা এম এ কাদির আল হাসান, দারুল হাদীস লাতিফিয়া লন্ডনের শিক্ষক মাওলানা মারুফ আহমদ, ম্যানচেস্টার শাহজালাল মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা খায়রুল হুদা খান, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা ইয়াসিন আহমদ, হাফিজ কয়েছুজ্জামান, আলহাজ¦ আবদুস সালাম, হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ প্রমুখ।

মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাদ উদ্দীন সিদ্দিকী, মাওলানা ফখরুল হাসান রুতবাহ, মাওলানা আবদুল মালিক, মাওলানা আবদুল কাহহার মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা হাফিজ হেলাল উদ্দিন, মাওলানা আবদুল আউয়াল হেলাল, আলহাজ¦ বদরুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন, হাফিজ মাওলানা আনহার আহমদ প্রমুখ।

গ্রান্ড ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) কনফারেন্স উপলক্ষে রাসূলে পাক (সা.) এর উপর দশ মিলিয়ন দুরুদ পাঠের উদ্যোগ নেওয়া হলে এতে ব্যাপক সাড়া মিলে এবং প্রায় এগারো মিলিয়ন দুরুদ পাঠের রিপোর্ট পাওয়া যায়। গ্রান্ড কনফারেন্সে ইউকের বিভিন্ন শহর থেকে আনজুমানে আল ইসলাহর নেতা-কর্মী, উলামায়ে কিরামসহ সহস্্রাধিক নবী প্রেমিক মুসলিম জনতা উপস্থিত হন। মাহফিলে দারুল হাদীস লাতিফিয়ার শিক্ষার্থীগণ এবং শামসুদ্দোহা শিল্পী গোষ্ঠির সদস্যগণ সুললিত কন্ঠে নাতে রাসূল পরিবেশন করে উপস্থিত নবী-প্রেমিকের হৃদয় ইশকে রাসূলে উদ্বেলিত করে তুলে।

Related Articles

One Comment

  1. Pingback: Daily Etc. News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *