মনীষা

হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) এর প্রথম জীবনীগ্রন্থের লেখক মুহম্মদ মুজিবুর রহমান : তাঁর জীবন ও কর্ম, মন ও মনন

ফরিদ আহমদ চৌধুরী

১৯৯৫ সালের শেষের দিকের কথা। আমি তখন মাসিক পরওয়ানায় বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেছি মাত্র। বাড়ী থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় আব্বা বললেন একটা হাতের লাঠি আনতে। হাঁটতে পারতেন কিন্তু হাতে লাঠি থাকলে হয়তো আরেকটু আরাম করে হাঁটতে পারবেন বলে লাঠি আনতে বলেছিলেন।

ঢাকা ফিরে যাবার পর অফিসে একদিন জানতে চাইলাম হাতের লাঠি কোথায় কিনতে পাওয়া যায়। আমি তখন ঢাকায় নতুন। অলি-গলি তখনো চেনা হয়ে ওঠেনি। একজন জানতে চাইলেন। কেন? লাঠি দিয়ে কি করবা? বললাম, আব্বা বলেছেন তাঁর জন্য একটা হাতের লাঠি নিতে। ও, তুমি বুঝ নাই তিনি আসলে কোন লাঠি চেয়েছেন। আমি কিছুক্ষণের জন্য একটু ধাঁধায় পড়ে গেলাম। তাহলে আব্বা কী বুঝাতে চেয়েছেন। আমি তখনো ভাবছি। কিন্তু প্রশ্নকারীর মুখে মুচকি হাসি দেখে আমার ভাবনায় ছেদ পড়ে এবং বুঝতে পারি হাতের লাঠি’র রূপক অর্থ তুলে তিনি আমার সাথে টিপ্পনি কাটছেন। সুপুরি খেতে খেতে লাল করা ঠোট দুটো দিয়ে, চোখের চশমা খুলে টেবিলে রাখতে রাখতে আমার দিকে চেয়ে মুচকি হেসে বললেন, বুঝতে পেরেছো তাহলে। তাঁর মুচকি হাসির জবাবে অফিস থেকে বের হতে হতে আমিও একটা মুচকি হাসি দিলাম। হাতের লাঠির অর্থ যে রূপকভাবে একমাত্র অবলম্বন বা ভরসা হয় তা প্র্যাকটিক্যাল একটা রোল প্লে এর মাধ্যমে শিখতে পারলাম। প্রশ্নকারী মুচকি হাসি দেয়া সেই শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন মাসিক পরওয়ানার প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম নির্বাহী সম্পাদক জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান- হ্যাঁ, মুহম্মদ মুজিবুর রহমান (রহ.)।

তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় মাসিক পরওয়ানার সূত্রে। কিন্ত এর আগেও আমি তাঁকে দেখেছি কিন্তু পরিচিত হবার সুযোগ পাইনি। ফুলতলীতে আমি তাঁকে প্রথম দেখি। আমি তখন ফুলতলী কামিল মাদ্রাসায় পড়ছি। তখনো দাখিল পরীক্ষা দেইনি, ১৯৯১ সালের আগের কথা। দারুল কিরাতের কেন্দ্রীয় অফিসে সাদা পাঞ্জাবী পাজামা আর লম্বা পাতলা টুপি পরা কাঁচা পাকা দাড়িওয়ালা, শুভ্র সফেদ মায়াবী চেহারার গুরু গম্ভীর একজন মানুষ গভীর মনযোগ দিয়ে দিন রাত কাজ করছেন। দারুল কিরাত অফিসে সাধারণত যারা কাজ করেন তাদের কেউ নন তিনি। স্বল্পকালীন সময়ের জন্য কী একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেন তিনি করছিলেন। কারো একজনের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম যে, হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বড় ছাহেব কিবলাহর নির্দেশনায় তিনি দারুল কিরাতের কেন্দ্রীয় অফিসের অডিটের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আজ মনে নেই কাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সে কথা। তবে প্রথম দেখা সেই মায়াবী চেহারাটা আজো ভুলিনি। ১৯৯৫ সালে মাসিক পরওয়ানায় যোগদানের পর তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ হয়।

মাসিক পরওয়ানা প্রকাশের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ, সুলেখক, সম্পাদক ও অনুবাদক ছোট ছাহেব হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী এবং তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাকালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। পরবর্তীতে তিনিই এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.) ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান পৃষ্ঠপোষক। বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান ও খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক জনাব ইউসুফ শরীফ দুজনেই ছিলেন পরওয়ানার অন্যতম রূপকার, পরামর্শক ও অনুপ্রেরণা। ছাহেবজাদা জনাব হযরত মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী ছিলেন সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সম্পাদকীয় উপদেষ্টা। জনাব মাওলানা সিদ্দীকুর রহমান চৌধুরী ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সহকারী সম্পাদক। জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান ছিলেন মাসিক পরওয়ানার প্রথম নির্বাহী সম্পাদক। ১৯৯২ সালের মে মাসের শুরু সংখ্যা থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। পরওয়ানা তখন ভিন্ন আঙ্গীকের ধর্ম-দর্শন, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সমাজ-সাহিত্য বিষয়ক একটি অন্যতম জাতীয় মাসিক হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও আকৃষ্ট করেছে যথেষ্ট পাঠক সংখ্যা।

জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান সাহেবের জন্ম হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার রাণীর কোট গ্রামে। এ গ্রামের আরেক নাম হচ্ছে কিরতাই। এজন্য ‘কিরতাই এর পীর ছাহেব’ নামেও তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর জন্ম ১৯৫১ সালের ৮ জুলাই রাণীর কোটের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ীতে। তাঁর প্রপিতামহ শেখ নজিব উল্লাহ তালুকদার বংশানুক্রমে একজন মিরাশদার ছিলেন। কথিত আছে, তৎকালীন ত্রিপুরার অধিপতি তাঁকে সরকার খেতাব প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি মহারাজের বিশগাঁও কাচারীর নায়েব ও তার নিযুক্ত কাজী বা বিচারক ছিলেন। মিরাশদারী প্রথা বিলুপ্তির পূর্ব পর্যন্ত লোকজন অত্র এলাকার খাজনা তখনো এ বাড়ীতেই এসে পরিশোধ করতো বলে এ বাড়ীকে সরকার বাড়ী বলা হত এবং এখনো সে নামেই পরিচিত। তাঁর বাবা মৌলভী শেখ মুহাম্মদ আব্দুল হাশিম তালুকদার, তাঁর প্রথম জীবনে এই খাজনা গ্রহণেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। মুহম্মদ মুজিবুর রহমান তাঁর বাবার একমাত্র ছেলে সন্তান। তাঁর এক বোন রয়েছেন। কৃতি পুরুষ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর, আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর প্রথম বাঙ্গালী অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, স্বাধীনতা পদকে ভূষিত প্রখ্যাত শিক্ষাবীদ, গবেষক ও ইঞ্জিনিয়ার ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ ছিলেন তাঁর চাচা। একই গ্রাম কিরতাই (বগাডুবী) এর বাসিন্দা ছিলেন তিনিও। তাঁর পূর্বপুরুষেরা সিলেটের আম্বরখানা থেকে তরপের এই আলোকিত অঞ্চলে এসে বসবাস স্থাপন করেন। ড. আব্দুর রশীদ তাঁকে খুব স্নেহ করতেন এবং তাঁদের মাঝে সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ।

জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করেন স্থানীয় রাজারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। মাধ্যমিক শিক্ষা রাজারবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় দুটোতে করলেও এসএসসি পরীক্ষায় রাজারবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই অংশগ্রহণ করে ১৯৬৮ সালে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। তাঁরাই ছিলেন ঐ স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম ব্যাচ। তাঁর সহপাঠীদের অন্যতম একজন হচ্ছেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক, হাড় বিশেষজ্ঞ ডা. আর আর কৈরী। ডা. কৈরী ছিলেন তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ১৯৭০ সালে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭২ সালে এমসি কলেজ সিলেট থেকে বিএ পাশ করেন। উচ্চতর শিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সে কোর্স আর সম্পন্ন করা হয়নি। মাঝে ১৯৭৯ সালে আইন নিয়ে পড়াশুনার জন্য সিলেটে সেন্ট্রাল ল’ কলেজে ভর্তি হয়েও ভবিষ্যতে আইন পেশায় না যেতে তাও বাদ দিয়ে দেন। তাঁর উপলব্ধি ছিল এরকম যে, এ পেশায় অনেক সময় অনৈতিক উপার্জনের সুযোগ থাকে, যা মোটেই সঠিক নয়। ইংরেজী ভাষার উপর তাঁর দক্ষতা ছিল অসাধারণ।

শিক্ষকতা দিয়ে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বড়াবদা প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল তাঁর প্রথম কর্মস্থল। ঘনশ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুদিন চাকুরি করার পর রাজারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। আনুমানিক ৫ বছর সেখানে চাকুরী করে অব্যাহতি নেন। অব্যাহতির পর ‘দরবেশ সাহেব’ এর দোয়া ও পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগদান করেন।

কে এই দরবেশ সাহেব? তাঁর সম্পর্কে খুব বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি। যতটুকু জানা যায়, তিনি একজন আল্লাহ ওয়ালা আলেম ও সাধক পুরুষ ছিলেন। তাঁর নাম শাহ সূফী হযরত মাওলানা আহম্মদ আলী (রহ.)। ‘নূরুল ইসলাম’ ছিল তাঁর উপাধি। তবে জৈন্তার পীর বা দরবেশ সাহেব হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত স্থানীয়ভাবে। তাঁর মূল বাড়ী ছিল সিলেটের জৈন্তা পরগনায়। তাঁর পূর্বপুরুষ হযরত শাহজালাল ইয়ামনী (রহ.) এর অন্যতম সংগী হযরত শাহ ফাত্তাহ (রহ.) এর নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা জৈন্তার রাজার পুরোহিত ছিলেন। জানা যায়, কলিকাতা আলীয়া মাদ্রাসাসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে এক সময় তিনি মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিলেন। মিশর এর পূর্বে মদীনা শরীফে তিনি নয় বছর অবস্থান করেন এবং সে সময়ে তিনবার হজ্ব আদায় করেন। মিশর থেকে দেশে ফিরে অজ্ঞাত কারণে বাড়ীতে আর ফিরে যাননি। দরবেশ বেশে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেছেন এবং জীবনের শেষ কটি দিন রাণীর কোটের এই সরকার বাড়ীতে অতিবাহিত করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ এখানেই ইন্তেকাল করেন। বাড়ীর সম্মুখভাগে তাঁর মাজার শরীফ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, মুহম্মদ মুজিবুর রহমান সাহেবের জন্ম এই দরবেশ সাহেবের দোয়ার বদৌলতে এবং তাঁর জীবনে এই দরবেশ সাহেবের প্রভাব ছিল খুবই ব্যাপক। দরবেশ সাহেব তাঁকে খুবই স্নেহ করতেন, ভালবাসতেন। তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের দৃঢ়তায় বিশ্বাস করি তিনি তাঁর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক ফয়েজ লাভ করেছিলেন।

মুহম্মদ মুজিবুর রহমান সাহেব দরবেশ সাহেবের নির্দেশনা মোতাবেক ১৯৭৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেখান থেকে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ এই কর্মময় জীবনে তিনি দক্ষতা ও সততার পরিচয় দেন। স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়ার পিছনে অন্যায়, দূর্নীতি ও অসদোপায় অবলম্বন না করার যে মূলনীতি জীবনভর মেনে-অনুসরণ করে এসেছেন তা রক্ষা করে চলা কঠিন হয়ে পড়া ছিল অন্যতম একটি কারণ। এছাড়াও দ্বীনি ও সামাজিক খিদমতে নিজেকে জড়িত করে এবং একাগ্রচিত্তে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত বন্দেগীতে মনোনিবেশ করে বাকী জীবনটুকু কাটিয়ে দেয়া ছিল স্বেচ্ছা অবসরে যাবার অন্যতম আরেকটি কারণ।

জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান এর অন্যতম পরিচয় হচ্ছে তিনি ছিলেন একজন সম্পাদক, গবেষক ও সুলেখক। তাঁর লিখিত প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত অনেকগুলো বই রয়েছে। তাঁর লিখিত প্রথম বই হচ্ছে তাঁর পীর ও মুর্শিদের জীবনীগ্রন্থ ‘হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে। এর প্রকাশক ছিলেন বিজিআইসি ঢাকাতে কর্মরত আরেক প্রিয় শ্রদ্ধাভাজন জনাব মানিক মিয়া। জীবনীগ্রন্থ সাধারণত কারো ইন্তেকালের পরে লেখা হয়ে থাকে। অবশ্য সে রীতি আজকাল আর খুব একটা অনুসরণ করা হয় না। আত্মজীবনী লেখারও প্রথা রয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে বিশেষ এক প্রেক্ষাপটে তিনি তাঁর প্রিয় মুর্শিদের এ জীবনী গ্রন্থ লিখায় হাত দেন। বিশিষ্ট বুযুর্গ ওলীয়ে কামিল শামসুল উলামা হযরত আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.) সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে ঢাকা থেকে প্রকাশিত তথাকথিত অখ্যাত বুর্জোয় একটি পত্রিকা যখন ভিত্তিহীন অসত্য কিছু মন্তব্য ও লেখালেখি করে তখন জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান এগিয়ে আসেন তার গঠনমূলক জবাব দিতে। প্রথম সংস্করণে লেখকের কথায় ‘বুযুর্গানে দীনের সহিত বেয়াদবীর ফলে বহুলোককে দূর্ভাগ্য বরণ করিতে হইয়াছে, এইরূপ শত শত ঘটনার অভাব নাই’ বলে সে ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন লেখক। তিনি ভাবলেন, হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) সম্পর্কে না জানার কারণে হয়তো তারা এমনটি করছে। তাই তিনি হযরত ছাহেব কিবলাহ (রহ.) এর শিক্ষা, কর্ম ও খিদমতসহ জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এই বই রচনা ও প্রকাশ করেন। এটা ছিল বুর্জোয়া সেই পত্রিকার সমোচিত এক জবাব, সঠিক গঠনমূলক বুদ্ধিদীপ্ত এক প্রতিবাদ, ঐতিহাসিক এক কর্ম। হযরত ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.) এর ইন্তেকালের পর তাঁর আরো অনেক জীবনীগ্রন্থ বের হয়েছে কিন্তু জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান লিখিত এই জীবনীগ্রন্থ সে সময়ে যে দাবী ও চাহিদা পূরণ করেছে তার স্বীকৃতি আমাদেরকে দিতেই হয়।

তাঁর লিখিত দ্বিতীয় গবেষণা গ্রন্থ হচ্ছে ‘তরিকায়ে মুহম্মদিয়া’। এটি তাঁর লিখিত একটি অন্যতম গবেষণা কর্ম। এ গ্রন্থটিও রচিত হয় একটি প্রেক্ষাপটে। তরিকায়ে মুহাম্মদিয়ার প্রতিষ্ঠাতা আমিরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) সম্পর্কে বাংলাদেশে একটা শ্রেণি অপবাদমূলক মিথ্যা ভিত্তিহীন অপপ্রচার করে থাকে। হযরত আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.) বাইআত গ্রহণের সময় ঐতিহাসিক চার তরীকা চিশতিয়া, কাদেরীয়া, নক্সবন্দীয়া ও মুজাদ্দেদিয়া এর পাশাপাশি তরিকায়ে মুহাম্মদিয়া’রও উল্লেখ করতেন। যার প্রেক্ষিতে ভিত্তিহীন অপপ্রচারকারীদের আক্রমণের শিকারও হতে হত হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) সহ তাঁর উর্ধ্বতন বুযুর্গদেরকে। মুহম্মদ মুজিবুর রহমান সাহেব দেখলেন এর একটি জবাব দেয়া প্রয়োজন। রচনা করলেন ‘তরিকায়ে মুহম্মদিয়া’। দ্বিতীয় সংস্করণে লেখকের কথায় লেখক নিজেই বলেন, ‘তরিকায়ে মুহম্মদিয়া শহীদে বালাকোট হযরত সাইয়্যিদ আহমদ বেরলভী (রহ.) প্রতিষ্ঠিত এক আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আদর্শিক আন্দোলনের নাম। সেই সময়কার উপমহাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওলাদে রাসূল (সা.), ইমামুত তরিকত, আমীরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) পরিচালিত সংস্কার ও আজাদী আন্দোলনের সঠিক ধারণা তুলে ধরাই এই পুস্তক প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য।’ বাংলা ভাষায় হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) সম্পর্কে তথ্যবহুল তেমন কোন পুস্তক ছিল না। তাঁর রচিত এই গ্রন্থটি ভ্রান্ত মিথ্যা ভিত্তিহীন অপপ্রচারকারীদের যেমন বুদ্ধিদীপ্ত এক প্রতিবাদ ছিল তেমনি বাংলা ভাষাভাষি মানুষকে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (রহ.) ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত তরিকায়ে মুহাম্মদিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও তত্ত্ব জানার সুযোগ করে দিয়েছে। বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ পরওয়ানা পাবলিকেশন্স, ঢাকা থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক জনাব ইউসুফ শরীফ। তিনি লিখেছেন, ‘তরিকায়ে মুহাম্মদিয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, প্রাণপুরুষ শহীদ সায়্যিদ আহমদ বেরলভী (রহ.) সম্পর্কে শুরু থেকে ঔপনিবেশিক বৃটিশ শাষকদের যে অপপ্রচার বৃটিশ ঐতিহাসিকদের যে মিথ্যাচার চলে আসছে তার স্বরূপ উদঘাটনের পাশাপাশি যথার্থ সত্য ও প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এ গ্রন্থে।’ সম্ভবতঃ ১৯৯৩ সালে, রশিদ বুক হাউস, বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে এ গ্রন্থের প্রথম সংস্করণটি প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত গবেষক দেওয়ান নূরুল আনওয়ার হোসেন চৌধুরী বাংলা একাডেমি ঢাকা থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘জালালাবাদের কথা’ গ্রন্থে এই বইয়ের আলোকপাতও করেছেন।

জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন খাঁটি আশিকে রাসূল (সা.)। কুরআনে পাক, হাদীস রাসূল, সীরাতের কিতাব ও সাহাবা জীবনী পড়ে রাসূল প্রেমের যে আগুন তাঁর হৃদয়ে জ্বলে উঠেছিল তা নবীজির উম্মতের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসে রচনা করেন ‘ইশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ গ্রন্থ। বইটি পরওয়ানা পাবলিকেশন্স ঢাকা থেকে ২০০২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রায় শত পৃষ্ঠার এই বইয়ে তিনি রাসূল প্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তগুলো চমকপ্রদভাবে যেমন তুলে ধরেছেন তেমনি রাসূল (সা.) এর সাথে বেয়াদবী ও দুশমনির পরিণাম কত লাঞ্চনাময় ও ভয়াবহ হতে পারে তাও তুলে এনেছেন। বই দুইটির ডিজাইন ও ছাপা সংক্রান্ত কাজে আমার নিজেরও কিছুটা সম্পৃক্ততা ছিল। গর্ববোধ হয় আজ সেই সম্পৃক্ততার জন্য।

এছাড়াও তাঁর লিখিত প্রকাশিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘তরিকতের যিকির আযকার’, ‘দরবেশ সাহেব’, ‘ড. এম. এ রশীদ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ এবং ‘তাজবীদ শিক্ষা’। অপ্রকাশিত বই যেগুলোর পান্ডুলিপি তিনি নিজেই প্রস্তুত করে গেছেন কিন্তু এখনো প্রকাশিত হয়নি তার মধ্যে রয়েছে ‘ইলমে গায়েব’, ‘কারবালা ও ইমাম হোসাইন (রা.)’, ‘ছোটদের মহানবী (সা.)’, ‘নূর নবী মোস্তফা (সা.)’। বইগুলো প্রকাশের দাবী রাখে এবং পাঠক তাতে উপকৃত হবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাঁর লেখার বিষয়বস্তুর প্রতি লক্ষ্য করলেই বুঝা যায় যে, তাঁর চিন্তা-চেতনা, মন-মনন, ধ্যান-ধারণা সবকিছু জুড়েই ছিলেন নবী মুহাম্মদ (সা.)। নবীর সুন্নত ছিল তাঁর পথের দিশা আর নবী প্রেম ছিল তাঁর সে পথের আলোকবর্তিকা।

মুহম্মদ মুজিবুর রহমান সাহেব মাদ্রাসায় পড়ে সার্টিফিকেটধারী কোন আলেম ছিলেন না ঠিকই; কিন্তু তাঁর ঈমানের দৃঢ়তা ও উচ্চতা, আমলের সৌন্দর্য্য ও একাগ্রতা, জীবনাচরণে সুন্নতে নববীর পাবন্দী, দ্বীনি জ্ঞানের গভীরতায় একজন সুদক্ষ আলেমের চেয়ে কোন অংশেই কম ছিলেন না। বেশ-ভূষায়ও তিনি একজন আলেমের মতই ছিলেন। পাঞ্জাবী পাজামা টুপি তিনি সব সময় পরতেন। আমি প্রথম যখন তাঁকে দেখি একজন আলেম বলেই ধরে নিয়েছিলাম। খানকায় বসে তিনি নিজে যেমন যিকির করতেন, তেমনি যিকির করাতেন। তাঁর নিজ বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত খানেকায়ে লতিফিয়ায় সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক নিয়মিত মাহফিল হত। সে সমস্ত মাহফিল তিনি নিজে পরিচালনা করতেন। এলাকায় মাহফিলে মাহফিলে বয়ান করতেন, আল্লাহর বান্দাদেরকে হেদায়েত ও জান্নাতের পথ দেখাতেন। তাঁর জীবন যাপন ছিল খুব সাধারণ। বিলাসী জীবন যাপন তাঁর পছন্দনীয় ছিল না। কিন্তু নিজেকে খুব পরিপাটি রাখতে পছন্দ করতেন। নির্মোহ, নির্লোভ, খুব শান্ত, ধীর ও স্থির প্রকৃতির সাদা মনের একজন মানুষ ছিলেন তিনি। কোন ধরণের লোভ বা ভয় তাঁকে তাঁর নিজের মূলনীতি থেকে টলাতে পারতো না। কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি তাঁর বিশ্বাস, চেতনা ও মূলনীতির উপর অটল থাকতেন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে দ্বিধা করতেন না যদিও তা কাউকে অখুশী করতো। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলেই জানতেন, মাঝামাঝি থাকার কোন প্রয়াস করতেন না। এ কারণে কেউ কেউ তাঁর সাথে দ্বিমত পোষন করলেও সমীহ করতো, অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করতো এবং পরিশেষে তাঁর কথাকেই মেনে নিত। নিয়মানুবর্তীতা ও সময়ের মূল্য তাঁর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সদা হাস্যোজ্জ্বল, ধীর গম্ভীর, আস্থায় অবিচল এই মানুষ কারো দ্বারা আক্রান্ত হয়েও মুচকি হাসতে পারতেন। নম্র-ভদ্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন তিনি। অত্যন্ত নরম সুরে তিনি কথা বলতেন, জোর গলায় কথা বলা, দম্ভভরে জোর পদে হাঁটা যেন তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথেই যেত না।

তাঁর চার মেয়ে ও দুই ছেলে। তাদের কাছে তিনি ছিলেন স্নেহবৎসল একজন আদর্শ পিতা। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই যুগে তিনি মূল্যবোধ রক্ষায় খুব গুরুত্ব প্রদান করতেন। একবার তাঁর এক সন্তানকে রিকশাওয়ালার সাথে এবং আরেকবার মুচির সাথে দর কষাকষি করতে দেখে ডেকে বললেন ওরা যা চায় তাই দাও, ওদের সাথে দর কষাকষি করো না। ওদের সামান্য আয়ের উপর তাদের পুরো পরিবার নির্ভর করে। আমার ছাহেব কিবলাহ হলে যা চাইতো তাদেরকে তার চেয়ে অনেক বেশী দিতেন। ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের সাথে সাধারণত তিনি দামাদামি করতেন না। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের এই বিষয়গুলো আমাদের সমাজ থেকে আজ যেন কর্পূরের ন্যায় উবে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানদেরকে এই মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে হবে। তবেই আমরা সুন্দর, শান্ত ও সুষম সমাজ ও পরিবার ফিরে পাব।

মানুষকে চেনার তাঁর যেন আলাদা একটা ক্ষমতা ছিল। প্রথম দেখাতেই ভাল-মন্দ বিচার করতে পারতেন। মনে-প্রাণে তিনি একজন আশেকে রাসূল ছিলেন। আহলে বায়ত বা সৈয়দ বংশের কাউকে দেখলে পরম শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন।
হযরত আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)’র অত্যন্ত প্রিয়ভাজন একজন মুরীদ ও মাজায ছিলেন তিনি। বিনাবাক্যে মাথানত করে কারো কথা শুনার এবং মেনে নেয়ার থাকলে তিনি ছিলেন তাঁর পীর ও মুর্শিদ হযরত ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)। ঐ এলাকার কেউ ছাহেব কিবলাহর খিদমতে গেলে দুজনের কথা জানতে চাইতেন এবং তাদের কাছে যেতে ও ফায়দা নিতে বলতেন। দুজনের একজন হচ্ছেন জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান এবং অপরজন হচ্ছেন আমরুটের পীর ছাহেব।

হযরত আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.) ছিলেন তাঁর পীর মুর্শিদ ও আদর্শ পুরুষ। তাঁর জীবনের সবকিছুতেই ছাহেব কিবলাহর জীবন থেকে উদাহরণ খুঁজতেন-টানতেন। ছাহেব কিবলাহ (রহ.) এর প্রতি অগাধ আস্থা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। ছাহেব কিবলাহ (রহ.) এর খিদমত ও মিশনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে রাজধানী ঢাকা ভিত্তিক সে সময় যে কয়জন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন নিঃসন্দেহে তিনিও তাদের একজন। তিনি হয়তো মিছিলের কোন কর্মী ছিলেন না, মিটিং-সমাবেশের নিয়মিত শ্রোতা ছিলেন না; কিন্তু হযরত ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রহ.)’র মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য বুদ্ধিভিত্তিক যে অবদান রেখে গেছেন তার জন্য তিনি যুগে যুগে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। অন্যান্য খিদমতের মধ্যে তিনি নিজ এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদরাসা ও একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেছেন।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাকে তিনি প্রাধান্য দিতেন এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। আমার তাঁর বাড়িতে দু’বার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তার বাড়িতে খাওয়া ডালপুরির স্বাদ এখনো ভুলতে পারিনি। সাধারণতঃ ডালপুরি ডাল পিষে যে রকম বানানো হয় সেটা সেরকম ছিল না। মধ্যম সম আকৃতির সুন্দর করে ফুলে ওঠা পুরিগুলো ছিল মসুর ডাল দিয়ে বানানো এবং ডালগুলো ছিল আস্ত কিন্তু অত্যন্ত নরম। পরে জেনেছি এটা ঐ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং এটাকে ঐ অঞ্চলে মুগপুরি বলা হয়ে থাকে যা সাধারণত মুগডাল দিয়ে বানানো হয়। অনেকে স্বাদে ভিন্নতা নিতে মসুর ডাল দিয়েও তৈরী করে থাকেন। মুহম্মদ মুজিবুর রহমান সাহেব মুগডাল দিয়ে তৈরী পুরিটাই বেশী পছন্দ করতেন। পাঠক! ঐ অঞ্চলে বেড়াতে গেলে মুগপুরির স্বাদ না নিয়ে আসবেন না।

জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান (রহ.) এর জীবন ও কর্ম নিয়ে এ নিবন্ধ নিতান্তই সংক্ষিপ্ত। তদুপরি তথ্য সংগ্রহে ছিল জটিলতা। নিজের স্মৃতি, পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় কিছু সূত্রের উপর নির্ভর করে লেখা এই নিবন্ধটি। তাঁর জীবন ও কর্মের মূল্যায়নের জন্য এ নিবন্ধকে আরো বিস্তারিত করার প্রয়াসে হয়তো কেউ এগিয়ে আসবেন-প্রত্যাশা রাখি। ২০১৭ সালের ১লা নভেম্বর জনাব মুহম্মদ মুজিবুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাযায় ইমামতি করেন তাঁরই প্রিয়জন ছোট ছাহেব হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। তাঁর মৃত্যুর খবর যখন ফেসবুকের কল্যাণে প্রথম জানতে পারি মনের মধ্যে একটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল। ২০০৩ সালে ব্রিটেনে আসার পর তাঁর সাথে আর দেখা হয়নি। দেশে গিয়ে একবার চেষ্টা করেও কেন যেন হয়ে ওঠেনি। তাঁর ইন্তেকালের পর যখন জানলাম যে তিনি আমার ও সিদ্দিক ভাইয়ের কথা (মাওলানা সিদ্দীকুর রহমান চৌধুরী, মাসিক পরওয়ানার সাবেক নির্বাহী সম্পাদক) পরিবারের সাথে আলোচনা করতেন এবং একদিন বলেছিলেন সিদ্দিক, ফরিদ ওরা তো একদিনও আমার সাথে যোগাযোগ করল না- তখন খুবই আফসোস হল আর হৃদয়ে সেই কষ্টটা তীব্রভাবে আবার অনুভব করলাম। ২০১৯ সালের ১লা নভেম্বর ছিল তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ভেবেছিলাম তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সে সময় নিবন্ধটি লিখব কিন্তু নানা ব্যস্ততায় তা হয়ে ওঠেনি।

আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই একনিষ্ঠ বান্দাহ ও তাঁর রাসূলের এই আশিকের সমস্ত খিদমতকে কবুল করে জান্নাতে উচ্চ মাকাম দান করুন।

[লেখক: সাবেক সহকারী সম্পাদক, মাসিক পরওয়ানা; সেক্রেটারি, লাতিফিয়া উলামা সোসাইটি ইউকে; জয়েন্ট সেক্রেটারী, আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে; গভর্নর, দারুল হাদীস লাতিফিয়া, লন্ডন।]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *